সখী ভালোবাসা কারে কয়?

E-mail this

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বিশ্বময় এ দিনটি উদযাপিত হয় উপহার বিনিময়ের মধ্য দিয়ে। ভালোবাসার মানুষটির মুখে অন্তত একদিন হাসি ফুটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সবাই। তবে ভালোবাসা একদিনের জন্য নয়। ভালোবাসা হোক প্রতিদিনের জন্য। তারপরও বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর ধরেই এদিনটি পালন হয়ে আসছে। তরুণ প্রজন্ম এদিনটি রঙিন করে পালন করে থাকে।

তবে যে অনুভূতি ‘ভালোবাসা’ নিয়ে এতো আয়োজন সে সম্পর্কে তাদের ভাবনা কী? এমন প্রশ্নই করা হয়েছে বহুজনকে। প্রশ্ন করা হয়েছিল রবি ঠাকুরের গানের লাইনের মতই ‘সখী ভালোবাসা কারে কয়?’ সবাই উত্তর দিলেন তাদের মত করেই।

Ireenআইরিন সুলতানা, ব্লগার

ভালোবাসা কারে কয়? এর উত্তর পুঁথিগতভাবে লিপিবদ্ধ করা কখনই সম্ভব না। রবি ঠাকুরের গানের সেই বিখ্যাত চরণ, ‘সখী ভালোবাসা কারে কয়’ এর রেশ দেখা যায় অধুনা টুটুলের গানেও। যত বছর বয়সেই লিখুন না কেন, মনের তারুণ্যে সে সময় রবি ঠাকুর খানিকটা বিষ্মিত আবেগ নিয়ে জানাতে অথবা জানতে চেয়েছিলেন, ‘সেকি কেবলি যাতনাময়’ । আর আধুনিক প্রজন্মের টুটুলের গানে শোনা যায়, ‘নদীর জলে ভালবাসা খোঁজার কোনও অর্থ কি হয়’! অর্থ্যাৎ ভালোবাসার মত এত প্রাচীন একটা বিষয় এখনো রহস্যই রয়ে গেল! সম্ভবত এ কারণে হালের ফেসবুক প্রজন্ম সম্পর্কের স্ট্যাটাসে জানান দিচ্ছে ‘It`s complicated’ ।

কিন্তু ভালবাসা আসলে জটিল নয়, একে জটিল-কুটিল করার দায়ভার মানুষেরই। ব্যক্তি বিশেষে কেউ বুদ্ধি দিয়ে ভালোবাসে, কেউ যুক্তি-দর্শন দিয়ে, কেউবা নির্জলা আবেগ দিয়ে, কারো জন্য ভালোবাসা ফ্যাশন, কারো জন্য প্যাশন! ভালোবাসার এই কাঠামো ও এর বিপরীতে সম্ভাব্য কমপ্লিকেসি, সেটা man made, মানে মনুষ্য ‍সৃষ্ট। ভালোবাসা মনোযোগ প্রত্যাশী। অস্থিরতা, মনোচাঞ্চল্য সম্পর্কের সাবলীল সরগমকে বিঘ্ন করে। অবিশ্বস্ততা ভালোবাসাকে সমাপ্তির কফিনে শায়িত করে। অথচ তরুণ প্রজন্ম মাত্রই অস্থির-চঞ্চল! তরুণ প্রজন্ম যদি নিজেরাই নিজেদের মুখোমুখি হয়ে দেখে-ভেবে-বুঝে নেয় তাদের ধরণকে, তাহলে ভালোবাসা নিয়ে ‘কমপ্লিকেটেড’ ধারণা পোষণকারী প্রজন্ম ভালোবাসার একটা নিশ্চিত বিহিত নিজেরাই খুঁজে পেতে পারে।

ভালোবাসা নিজের জন্য হোক, প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য হোক, পরিবারের জন্য হোক, দেশের জন্য হোক। প্রতিদিনই হোক। দিবসের জন্য ভালবাসা বসে থাকবে না। তবে একটি বিশেষ দিবসে সবাই মিলে ঘোষণা করে ভালোবাসা উদযাপন এমন কিছু মন্দ নয়। মজার হলো, পৃথিবী টিকে থাকলে, মানব প্রজাতি বেঁচে থাকলে আগামি ১০০ বছরেও মানুষ ‘ভালোবাসা কারে কয়’ এর উত্তর খুঁজবে। মানুষ যতবার ভালোবাসা খুঁজবে, ততবারই ‘ভালোবাসা কারে কয়’ এর উত্তর খুঁজবে। প্রশ্নটা তরুণ প্রজন্মের প্রত্যেকের কাছ থেকেই প্রতিধ্বনিত হবে। তবে একজন যত বড় দার্শনিক-ঋষি-মনীষীই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার প্রস্তুতকারক ট্যাগ হিসেবে লেখা থাকুক ‘made in heart’ , কারণ একজন ‘হৃদয়বিদ’ এর পক্ষেই ভালোবাসা সম্ভব।

শিমুল সালাউদ্দিন, তরুণ কবি

আমার ভালোবাসা পাগলের মতোন ভালোবাসা
ভালোবাসি বলেই বেঁচে আছি, থাকি
চারপাশের মানুষকে, পরিবেশকে, অনুষঙ্গগুলোকে ভালোবাসি বলেই প্রতিমুহূর্তে বেঁচে আছি
বেঁচে থাকতে চাই।

ভালোবাসা শুধুমাত্র দুজনের পাগলামি না
সবার আগে আমার ভালোবাসা আমার পরিবারের প্রতি, মা বাবা, ভাই বোন
আমার কাজের প্রতি
কবিতার প্রতি
যে আমাকে ভালোবাসাহীন অবস্থায় আশ্রয় দেয়।

এভাবেই সবার আগে তাই নিজেকে ভালোবাসা কর্তব্য
যাতে কোনও মুহূর্তে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা না আসে।

ফারজানা রুম্পা, লেখক

ভালোবাসা একটি আপেক্ষিক বিষয়। এটি একটি সুক্ষ্ম অনুভূতি যা মানুষকে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার উৎসাহ দেয়। মানুষ নানা কারণে একে অপরকে ভালোবাসে। হয়তো সোন্দর্য্য, হয়তো স্মার্টনেস, হয়তো মেধা বা কখনো কখনো সাধারণ কথাবলাই ভালো লাগার কারণ হয়ে পড়ে। কিন্তু আজকালকার যুগে এসব কিছুর উপরেও যা প্রয়োজন তা হলো স্বাচ্ছন্দ্য। যখন মানুষ কারো সঙ্গে থাকতে ভালোবাসে, তখনই মানুষ তাকে ভালোবাসে। কোনও প্রয়োজনের তাগিদে একসাথে বসবাস করাটা আসলে কোনও এক সময় জীবনভর যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে সম্পর্কে নিজের চাওয়া পাওয়া যাকে বোঝাতে হয় না, কোনও আরোপিত ভালোবাসা-বাসি যখন থাকে না, সেটাই ভালোবাসা। স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে জীবন শেয়ার করার অপর নাম ভালোবাসা। আর যখন এই একসাথে থাকা অভ্যাসে পরিণত হয় তখনই মানুষ সুখী হয়। এগুলো পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত, সম্পূরক। আর এই অনুভূতিটাকে অনুভব করার জন্য যা প্রয়োজন তা হলো- নিজেকে ভালোবাসা।

সজিব আহমেদ, সংগঠক

ভালোবাসা মানেই হলো বিশ্বাস। যে বিশ্বাসে বিনা বাধায় নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়া যায় সাগরের জলে। যে বিশ্বাসে ভর করে নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে বলা যায়- ওই আকাশ আমার। আর সেই বিশ্বাসের জোরেই হাতে হাত ধরে পায়ে পা মিলিয়ে পাড়ি দেওয়া যায় অনন্ত পথ।

ফৌজিয়া করিম অনু

ভালোবাসা হলো সিগারেটের মত। না থাকলে উশখুশ লাগে, ভরপেটে খেলে ঢেকুর উঠে। বেশি খেলে বুকে ব্যাথা করে। পকেটের ওজনও কমায়। যারা আশেপাশে থেকে পজিটিভ ক্ষতির শিকার হয়, তাদের কাছে হাজারবার ছেড়ে দেবো ভেবেও ছাড়া হয়ে ওঠে না। বাবা-মায়ের অগোচরেই এসব করতে হয়। তবে ভালোবাসার মধ্যে কোনো সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ নেই।

সুপ্রিয়া শৈলী, সংগঠক

ভালোবাসা হলো একটা বিশেষ অনুভূতি যা প্রিয়জনকে ঘিরে আমার মাঝে সারাক্ষণ একটু একটু করে বেড়ে চলা একটি নাম। নিজেকে ভালোবাসার আবিরে রাঙাতে চাই শুধু তার জন্য। যেখানে যাই আমার সব পথ কীভাবে যেন তার কাছাকাছি হয়ে যায় জানি ‍না। ভালোবাসা মানে পৃথিবীর ৬০০ কোটি মানুষের মাঝে প্রিয় মানুষটিকে আলাদা করে দেখা।

রুমানা বৈশাখী, লেখক

ভালোবাসা … সেই অনুভব, যার সাথে কোনও স্বার্থ জড়িত থাকে না। আর যদি দেনা পাওনাটা জড়িয়েই যায়, তবে তাকে ভালোবাসা বলতে আমি নারাজ। আমার কাছে ভালোবাসা মানে সেই প্রচণ্ড আবেগ- যা আমি আব্বু-আম্মুর জন্য, ৪বছরের ভাগ্নিটার জন্য, আপন পরিবারের জন্য অনুভব করি। ভালোবাসা মানে সেই নিদারুন আকর্ষণ জীবনের প্রতি, যা আমাকে বাঁচিয়ে রাখে প্রতিদিন। মুঠো মুঠো রোদ্দুরের মতন আলোকিত বন্ধুত্ব, ভরসাযোগ্য কিছু মানবিক সম্পর্ক, আপন মানুষ কয়েকজন… এই তো ভালোবাসা

ইশিতা শারমিন রায়হান, শিক্ষার্থী, ইউল্যাব

ভালোবাসার সংজ্ঞা দিতে সবাই ব্যস্ত আজ। কারণ আজ ভালোবাসা দিবস। কিন্তু আমরা যে প্রতিদিন একটু একটু করে ভালোবাসি তা ভুলে যাই খুব সহজে। মা তার সন্তানকে ভালোবাসে প্রতিদিন। বউ তার স্বামীকে, বন্ধু তার বান্ধবীকে এমনকি ভাই বোনের ভালোবাসাও প্রতিদিন আদান প্রদাণ করা হয়। ভালোবাসা দিবসটা শুধু ভালোবাসাকে একটা রূপ দেওয়ার জন্য। কখনও ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে ফুল দেওয়া নেওয়ার মাঝে। কখনও চকলেট বা কখনও অন্যকোনো উপহার। ভালোবাসা সবার জন্য সমান নয় কিন্তু ভালো লাগে অনুভূতিটা সবার কাছে এক ও অদ্বিতীয়। তাই আমি মনে করি ভালোবাসার কোনো নাম নেই, দিবস নেই, প্রতিদিনই আমরা ভালোবেসে যাই।

মৌরি মেহজাবীন, শিক্ষার্থী, ইউল্যাব  

ভালোবাসা হলো এমন এক সম্পর্ক যা প্রথম প্রথম বোঝা যায় না। এটি এক শব্দে বলতে হয় অনুভব করার মতো। হঠা‍ৎ করেই মনের কোণে নাড়া দিয়ে উঠে এই টান। প্রাণে বয়ে ‍যায় স্নিগ্ধতার বাতাস। পরিচিত সেই মানুষটির সামনে গেলে কেমন জানি আকুলতা, লজ্জা কাজ করে মনের অন্তরালে। ভালোবাসা গড়ে ওঠার পর থেকে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটানো এক একটি মুহূর্ত যেন স্বপ্নীল আকাশের দিকে হাতছানি দেয় আর কানে কানে বলে ‍যায়- তুমি একা নও, কেউ আছে তোমার জন্য এই সুন্দর পৃথিবীতে।

 

 

nÛziv‡mi †Kvgvqv¸qv KvivMv‡i `v½vi ci Qwo‡q cov Av¸‡b GK gwnjvmn Aš—Z 357 Rb wbnZ n‡q‡Q| Gi g‡a¨ 356 RbB Kvivew›`| G QvovI AviI `yB kZvwaK ew›` AvnZ n‡q‡Q| Kg©KZ©viv Rvwb‡q‡Qb, Kviv †mj¸‡jv‡Z AviI A‡bK ew›` AvUKv c‡o Av‡Q| ivRavbx †Z¸wPMvjcv †_‡K 75 wK‡jvwgUvi Dˇi †Kvgvqv¸qv kn‡ii KvivMv‡i g½jevi iv‡Z G AwMœKvÊ N‡U| KvivMviwU‡Z cÖvq 800 ew›` wQj| iqUvm©/wewewm/GGdwc|
†Kvgvqv¸qvi d‡ibwmK wefv‡Mi cÖavb jywm gvi‡`i e‡jb, wbn‡Zi msL¨v 272| Z‡e G Z_¨ cÖv_wgK| g„‡Zi msL¨v AviI evo‡Z cv‡i| wbnZ‡`i †ewki fvMB †m‡j ew›` Ae¯’vq gviv †M‡Q e‡j Rvwb‡q‡Q ¯’vbxq †eZvi¸‡jv| RvwZms‡Ni wePv‡i nÛzivm j¨vwUb Av‡gwiKvi me‡P‡q AcivacÖeY †`k| †mLv‡b `v½v- nv½vgv cÖvq wbqwgZ e¨vcvi| g½jevi Ggwb GK `v½vi †Ri a‡i iv‡Z NÈve¨vcx AwMœKv‡Êi NUbv N‡U| Avi G‡ZB G nZvnZ nq| KvivMv‡ii gyLcvÎ †Rv‡m Mvwm©qv e‡jb, †mLv‡b ZLb Ggb fqven cwiw¯’wZi m„wó n‡qwQj †h, Kvivi¶x‡`i c‡¶ †mj¸‡jvi AwaKvs‡ki Zvjv Ly‡j †`qv m¤¢e nqwb| Avi hviv †eu‡P †M‡Qb, Zv‡`i †ewki fvMB AwMœ`», hv‡`i A‡b‡KiB Ae¯’v AvksKvRbK| j¨vwUb Av‡gwiKvq GwUB KvivMv‡i me‡P‡q fqven AwMœKv‡Êi NUbv|

 এই রিপোর্ট পড়েছেন  596 - জন
 রিপোর্ট »বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী , ২০১২. সময়-১২:২৪ pm | বাংলা- 4 Falgun 1418
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!

Leave a Reply

3 + 8 =  

Chief Ediror : Advocate Ferdaus Ahmed Asief  » E-mail :japanewsbd @gmail.com, abbokul@yahoo.com  » Mobile: 01716-186230,01765-375401 Copyright © 2011 » All rights reserved.
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP
☼ Provided By  websbd.net  » System   Designed by HELAL .