গৌরীপুর( ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা :উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধীনে জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রকল্পের (এনএটিপি’র) পরামর্শ গ্রহণ করে উপজেলার বোকাইনগর, রামগোপালপুর, ডৌহাখলা, অচিন্তপুর, মাওহা,সহনাটী, সিধলা, গৌরীপুর, মইলাকান্দা ও ভাংনামারী এই ১০টি ইউনিয়নের ডিজিটাল ক্রুপিং প্যাটার্নে কয়েকশ’ চাষী পবিত্র রমযান মাসকে সামনে রেখে প্রায় ৮শ’ একর জমিতে ডেইজি, আদরী, আলাবী ও হীরা জাতের উচ্চ ফলনশীল সবজি শসা চাষ করেছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে মাত্র ৬০ দিনে শসা চাষীদের ঘরে উঠছে কমপক্ষে ১২ কোটি টাকা। ‘‘বোরো আবাদের পর শসার আবাদ শেষে একই জমিতে আমন ও পরে আলু চাষ” বছরের ৩৬৫ দিনের এই ডিজিটাল ক্রুপিং প্যাটার্ন একমাত্র গৌরীপুর উপজেলায় দেখা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে বোকাইনগর ইউনিয়নের স্বল্প বড়ভাগ, কিছমত বড়ভাগ, দিউপাড়া, নাহড়া, ডৌহাখলা ইউনিয়নের তাতকুড়া,স্বল্প ডৌহাখলা, গয়েশ খিলা, তেলিজানী, কলতাপাড়া, চান্দের সাটিয়া, চুড়ালী, রোকনাকান্দা, মইলাকান্দা ইউনিয়নের কাউরাট, গোবিন্দপুর, সূর্যাকোনা, গাভীশিমুল, মাওহা ইউনিয়নের খান্দার, ফুলবাড়ীয়া, খালিজুরী, মখুরিয়া, মাওহা, বি-নহাটা, বীরআহম্মদপুর, সহনাটী ইউনিয়নের সহনাটী,পাছার, রামগোপালপুর ইউনিয়নের ধুরুয়া, গুজিখা, ভাংনামারী ইউনিয়নের বারয়োমারী, ভোলার আলগী, ভাটিপাড়া, সিধলা ইউনিয়নের মনাটি, সিধলাসহ ১০ টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে, চোখ জুড়ানো সবুজের দোলায়িত্ব শুধু শসার ক্ষেত। অতীতে পানি জমে না সেই সকল উঁচু জমিতে শীতের সবজি হিসেবে শসা চাষ করা হতো। বর্তমানে এ উপজেলায় সারা বছর নীচু জমিতে এনএটিপি’র আধুনিক পদ্ধতি ২ ফুট প্রস্থের ড্রেন দেড়ফুট গভীর করে তা থেকে মাটি উঠিয়ে ১ মিটার প্রস্থ সারি সারি বেড করে সেখানে শসা চাষ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতির কারণে প্রবল বৃষ্টিতে শসা ক্ষেতের কোন তিতো করেই না বরং শসা বেডের পাশে নির্মিত ড্রেনে বৃষ্টির জমা পানি ও সেই পানিতে নানাবিধ আবর্জনা পচে শসা গাছের সার ও প্রয়োজনীয় সেচের যোগান দিয়ে থাকে। স্বল্প বড়ভাগ গ্রামের শসা চাষী হাসেম খা, মোঃ মজিবুর রহমান, সোহেল রানা, আবু তাহের রমজান আলী, আব্দুল আজিজ এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে এনএটিপি’র প্রযুক্তি গ্রহণ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এজি এম গোলাম মোস্তফার মাঠ পর্যায়ে সঠিক তদারকি ও পরামর্শে প্রথমে কম জমিতে শসা চাষ করে লাভবান হয়ে এ বছর বোরো ধান উঠানোর পর পরেই বিপুল পরিমাণ জমিতে শসা চাষ করেছে তারা। আসন্ন পবিত্র রমযান মাসের ১ম দিকেই এ সকল শসা ক্ষেতে পরিপুর্ণ শসায় ভড়ে উঠবে। শসা চাষী সূত্রে জানা গেছে প্রতি ১০ শতক জমিতে চাষকৃত শসা ফলন পর্যন্ত বীজ,সার, শ্রমিক মজুরিসহ ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা উৎপাদন ব্যয় করে একেক জন কৃষক ফলন পাবে ৫০ থেকে ৬০ মণ শসা। যে শসা বিক্রি করলে খরচ বাদ দিয়ে তাদের আয় হবে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। যা আউশ ধান বা অন্যান্য ফসল উৎপাদনের আয়ের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি। ডৌহাখলা ইউনিয়নের চুড়ালী গ্রামের পুরনো শসা চাষী আমুদ আলী মেম্বার জানিয়েছেন, স্থানীয় কৃষি অফিসের উদ্যোগে ও এনএটিপির প্রযুক্তি গ্রহণ করে তাতকুড়াকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল মুনসুরের সার্বক্ষণিক তদারকিতে এবারো সে সাড়ে ৪শ’ শতক জমিতে শসা চাষ করেছেন। এতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা উৎপাদন ব্যয় বাদে তিনি শসা বিক্রি করবেন প্রায় দেড় কোটি টাকা, একই গ্রামের আজিজুল ৩শ’ ৫০ শতক জমিতে শসা চাষ করে উৎপাদন ব্যয় ছাড়া শসা বিক্রি করবেন প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। একই গ্রামের চাষী নুরুল হক, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ আড়াই একর জমিতে শসা চাষ করে উৎপাদন ব্যয় ছাড়া ঘরে তুলবেন প্রায় ৮ লাখ টাকা। স্বল্প বড়ভাগ গ্রামের সোহেল মিয়া ৭০ শতক জমিতে শসা চাষ করে উৎপাদন ব্যয় করেছে ৬৫ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে চাষী সোহেল মিয়ার আশা প্রাকৃতিক প্রতিকুলতা ও রোগবালাইয়ের আক্রমন না হলে বোর আবাদ শুরহেওয়ার আগেই উৎপাদন ব্যয় বাদে শসা বিক্রি করে ঘরে তুলবেন আড়াই লাখ টাকা। এরকম উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের শত শত চাষী শসা নামক লাভজনক সবজি চাষ করে হাজার নয় লাখ থেকে কোটি টাকা আয়ের স্বপ্নে এখন প্রতিক্ষার প্রহর গুণছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজ জানিয়েছেন, সারা বাংলাদেশে শস্য পর্য়ায় অর্থাৎ (উŠৃঅেূঐ ইেককঋŠূ) ক্রপিং প্যাটার্নের নতুন রূপ ও বিশেষ ভিন্নতা হচ্ছে গৌরীপুর উপজেলা। এ উপজেলায় বছরের ৩শ’ ৬৫ দিনের ১শ’ ৪০ দিনে বোরো ফসল উঠানোর পরেই আউশ ধান না করে শসা চাষ করে ৬০ দিনে শসা উৎপাদন শেষে সেই জমিতে আমন ধান চাষ করে ১শ’ ১৫ দিনে আমন ধান উঠিয়ে সেখানে ৫০ দিন সময়ের আলু চাষ করা হয়ে থাকে। ফলে এ উপজেলায় নতুন ক্রপিং প্যাটার্নে বছরের একটি দিনও কোন ফসলী জমি ফসলবিহীন থাকে না।









