আজিজুর রহমান # সাভারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ৭টি গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমিনবাজারের সালেহপুর এলাকায় এ ঘটনা
ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত ইকবাল হোসেন (২৭) আমিনবাজার ইউনিয়নের চাঁনপুর মহল্লার লিয়াকত আলীর ছেলে। সে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের শাখা সড়ক ভাকুর্তা রোডের প্রাইভেটকার চালক ও ব্যবসায়ী। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে গতকাল রাতে সাভার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আমিনবাজার এলাকার চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত হোসেনের বড় ছেলে ট্যাক্সি ড্রাইভার ইকবাল হোসেন (২৫) কে পূর্ব শত্র“তার জেরধরে বাসা থেকে ডেকে এনে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় আমিনবাজার এলাকার চাঁনপুর গ্রামবাসী ও উত্তেজিত জনতারা ওয়ানলাইন ফিলিং স্টেশনের পশ্চিম পাশে ইট ভাটায় পার্কিংরত থাকা ৫ টি ট্রাক, একটি ভেকু ও প্লাস্টিক বোতল ফ্যাক্টরিতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে সাভার থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় প্রায় ১ ঘন্টা সড়ক অবোরধ করে রাখে উত্তেজিত জনসাধারণ।
নিহতের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানায়, আমার বড় ভাই আর আমি আমিনবাজার থেকে চাঁনপুর গ্রাম রোডে ট্যাক্সি চালাই। গতকাল দুপুরে কে বা কারা আমার ভাইকে মোবাইলে ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আমরা এলাকার লোক মারফত জানতে পারি আমার ভাইকে কারা যেন অজি বক্স মার্কেটের সামনে মেরে ফেলেছে। পরে তার ফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাই। তাকে খোঁজাখুজি করে পরে অজি বক্স মার্কেটের পিছনের দেওয়ালে তার রক্ত দেখতে পাই। এ সময় পাশে পানির ডোবায় কচুরি পানার ভিতরে তার মৃত দেহ পাওয়া যায়। পরে সবাই তাকে ডোবা থেকে উঠিয়ে উপরে নিয়ে আসে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপাতি ও রামদার কোপের দাগ রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, ভাইয়ের সাথে আমিনবাজার এলাকায় নতুন পাওয়ার গ্রীডের বালুর কাজের টেন্ডার নিয়ে অজি বক্স মার্কেটের মালিকের ছেলে সুলতান, সেলিম ও সাইদুরের সাথে বিরোধ ছিল। এই কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের ফুফাত ভাই আনজাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে ইকবালকে কয়েকজন বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আশপাশে খোঁজাখুজি করেও তার হদিস না মিলায় আমরা হতাস হয়ে পরি। অবশেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সালেহপুর ব্রীজের কাছে গিয়ে দেখি নদীর ঢালে ইকবালের ক্ষতবিক্ষত দেহ পরে রয়েছে। পাশে এক নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সোহরাব হোসেন কয়েক লোকজন নিয়ে গর্ত করছে ইকবালের দেহ পুতে রাখার জন্য। তখন লোকজন মেম্বার ও তার সঙ্গীদের ধাওয়া করলে তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কের পাশে থাকা বেশ কয়েটি গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি আরও জানান, পূর্ব শত্র“তার জের ধরে সোহরাব মেম্বার ইকবালকে তার লোকজন দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সালেহপুর এলাকার অনলাইন সিএনজি স্টেশনের পাশে অজিবক্স প্লাস্টিক কারখানার ভিতরে হত্যার পর লাশটি মাটিতে পুতে রাখার সময় আমরা দেখে ফেলি। তিনি বলেন, আর কিছুক্ষণ পরে গেলে ইকবালের মৃতদেহেরও আর কোন হদিস পেতাম না।
নিহতের ফুফাত ভাই আনজাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে ইকবালকে কয়েকজন বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আশপাশে খোঁজাখুজি করেও তার হদিস না মিলায় আমরা হতাস হয়ে পরি। অবশেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সালেহপুর ব্রীজের কাছে গিয়ে দেখি নদীর ঢালে ইকবালের ক্ষতবিক্ষত দেহ পরে রয়েছে। পাশে এক নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সোহরাব হোসেন কয়েক লোকজন নিয়ে গর্ত করছে ইকবালের দেহ পুতে রাখার জন্য। তখন লোকজন মেম্বার ও তার সঙ্গীদের ধাওয়া করলে তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কের পাশে থাকা বেশ কয়েটি গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি আরও জানান, পূর্ব শত্র“তার জের ধরে সোহরাব মেম্বার ইকবালকে তার লোকজন দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সালেহপুর এলাকার অনলাইন সিএনজি স্টেশনের পাশে অজিবক্স প্লাস্টিক কারখানার ভিতরে হত্যার পর লাশটি মাটিতে পুতে রাখার সময় আমরা দেখে ফেলি। তিনি বলেন, আর কিছুক্ষণ পরে গেলে ইকবালের মৃতদেহেরও আর কোন হদিস পেতাম না।
সাভার মডেল থানার ওসি মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, পূর্ব শত্র“তার জের ধরে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে দুর্বৃত্তরা ইকবালকে এলোপাথারী কুপিয়ে হত্যা করেছে। প্রতিবাদে এ ঘটনায় কয়েকটি গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ করে রাখে তারা। পরে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেন জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা ৬টি ট্রাক ও একটি ভেকুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ঢাকা থেকে দমকল বাহিনীর দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে গাড়িগুলো বেশিরভাগ অংশ পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়।









