হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, মহাজোট ছাড়া সময়ের ব্যাপার

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, মহাজোট ছাড়া এখন জাতীয় পার্টির জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। অপে¶া কর“ন, যে কোন সময় মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দেব। আগামী নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধাš— পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আর কোন জোট নয়। এককভাবে কারও প¶ে এত বড় একটি দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়। তাই জোট হবে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের বেলায়, দেশ পরিচালনায়। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে, তা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ এরশাদ ও জাতীয় পার্টি। বড় দুই দল কেউ কাউকে মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগ চায় না বিএনপি ¶মতায় আসুক, বিএনপি চায় না আওয়ামী লীগ আসুক। এরশাদ ও জাতীয় পার্টি ¶মতায় এলে কারও আপত্তি থাকবে না। নির্বাচনে জয়ী হয়ে ¶মতায় এলে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সবাই আমাকে মেনে নেবে।
বৃহস্পতিবার বারিধারার বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে যুগাš—রকে দেয়া একাš— সা¶াৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি দিলি­তে তার হাইপ্রোফাইল ভিজিট, আগামী নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অš—র্বর্তী সরকারের রূপরেখা, চলমান রাজনৈতিক সংকট, জাতীয় পার্টির অবস্থান, আগামীতে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ নানা ইস্যুতে খোলামেলা কথা বলেন দীর্ঘ নয় বছরের এই রাষ্ট্রনায়ক। পাঁচ দিনের দিলি­ সফর শেষে ঈদের আগের দিন দেশে ফেরা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বেশ প্রাঞ্জল ও হাসিখুশি মুডেই কথা বলেন। আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আÍবিশ্বাসীও মনে হয়েছে তাকে সা¶াৎকার নেয়ার সময়। বিশেষ করে দিলি­ সফর তার আÍবিশ্বাসকে অনেকখানি দৃঢ় করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এরশাদ বলেন, এই সফর আগামী দিনে জাতীয় পার্টির রাজনীতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে বলে তার বিশ্বাস।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দিলি­ সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তোলপাড় চলছে। প¶ে-বিপ¶ে নানা আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোও এ নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ শুর“ করেছে। তবে যে যাই বলুক, এই সফর নিয়ে খুশি এরশাদ এবং তার দলের নেতাকর্মীরা। তোপখানা রোডের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন সরব এই ইস্যুতে। দলের শীর্ষনেতারা প্রতিদিনই প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় জড়ো হচ্ছেন। সফর নিয়ে জানার আগ্রহের শেষ নেই তাদের। এ অবস্থায় রোববার জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভা আহŸান করেছেন এরশাদ। সেখানেই তিনি সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনাসহ পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নেতাদের নির্দেশনা দেবেন।
এরশাদ বলেন, নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ¯^-¯^ পদে বহাল থাকবেন। দলীয় সংসদ সদস্যরাও থাকবেন। এতে তো আর লেভেলপে­ইং ফিল্ড তৈরি হবে না। এ অবস্থায় কিভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে? বিএনপিই বা কেন অংশ নিয়ে এই নির্বাচনকে বৈধতা দিতে যাবে। জাতীয় পার্টিরই বা এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে কী লাভ হবে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, দেশের মানুষকে বোকা ভাবা ঠিক হবে না। নির্বাচনের আগে অবশ্যই সংসদ ভেঙে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যে অš—র্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখার কথা বলছেন, তা অবশ্যই সংসদ ভেঙে দিয়ে করতে হবে। এ¶েত্রে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যদি প্র¯—াবিত অš—র্বর্তী সরকারের প্রধান হতে চান, তাতে জাতীয় পার্টির আপত্তি থাকবে না। যেহেতু নির্বাচনই ¶মতা বদলের একমাত্র পথ, তাই গণতন্ত্রের ¯^ার্থে নির্বাচন হতেই হবে। তার দল জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ নেবে।
দিলি­ সফর সম্পর্কে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, সব মিলিয়ে এটি একটি সফল সফর। রাজনৈতিক তাৎপর্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপা¶িক ¯^ার্থসংশি­ষ্ট বিষয়ও এই সফরে আলোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত তার পুরনো বন্ধু। এই বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফরে এসে তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ র¶া করতেই তার দিলি­ সফর। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, একজন সিটিং রাষ্ট্রপতিকে যে সম্মান দেয়া হয়, আমার ¶েত্রেও সেই সম্মান দেখিয়েছেন তারা। সফরের সময় ভারতের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এবং প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দু’জনই তাকে আশ্ব¯— করেছেন। বলেছেন, আজ হোক কাল হোকÑ তি¯—া নদীর পানিবণ্টন চুক্তি হবেই।
দিলি­র কাছে হঠাৎ এত গুর“ত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা কেনÑ এমন প্রশ্নে হেসে ফেলে তিনি বলেন, এর পেছনে হয়তো একটাই কারণ। ভারত হয়তো সব ডিম আর এক ঝুড়িতে রাখতে চাচ্ছে না। এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি কোন ফেলনা রাজনৈতিক দল নয়, এটা তারা বুঝতে পেরেছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের পুরনো বন্ধুত্বও এই সফরের মধ্য দিয়ে তারা ঝালাই করে নিতে পারে। জাতীয় পার্টি দেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে আরও অনেক বেশি অবদান রাখতে পারে, ফ্যাক্টর হিসেবে আÍপ্রকাশ করতে পারেÑ এই উপলব্ধিটাও বোধ হয় তাদের হয়েছে। এসব কারণেই হয়তো এত গুর“ত্ব দেয়া।
কি আলোচনা হয়েছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ট্রানজিট, তি¯—ার পানি চুক্তি, ছিটমহল, টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ বন্ধসহ নানা প্রসঙ্গ। তারা তি¯—ার পানি চুক্তির বিষয়ে আশ্ব¯— করে বলেছেন, এ চুক্তি হবেই। বাংলাদেশের ¶তি হলে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন তারা। ছিটমহলের সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে। আমি বলেছি, বের“বাড়ি দিলাম। দহগ্রামে চলাফেরার অনুমতি পেলাম। রা¯—ার মালিকানা পেলাম না। জবাবে তারা বলেছেন, সমস্যা সমাধানে ভারতের বর্তমান সরকারও চেষ্টা করছে। তবে এই সমস্যা সমাধানে তাদের সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এজন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন থাকা দরকার। এই মুহূর্তে ¶মতাসীনদের তা নেই বলে সমস্যাটির সমাধানে কার্যকর কিছু করতে পারছে না বলে ভারত জানিয়েছে।
এরশাদ বলেন, ট্রানজিট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি, তাদের যেমন এ ¶েত্রে ¯^ার্থ জড়িত, তেমনি আমাদেরও ¯^ার্থ জড়িত। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থাপনে আমাদেরও ট্রানজিট প্রয়োজন। তিনি বলেন, ট্রানজিট হলে ভারত-বাংলাদেশ উভয়ই লাভবান হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কী আলোচনা হয়েছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, সব কথা তো আর বলা যাবে না। লেখাও যাবে না। তবে পার্শ্ববর্তী একটি বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। সংসদ কার্যকর দেখতে চায়। আর তাদের এই চাওয়াটা তো দোষের কিছু নয়। আমরাও তা চাই। কিন্তু দেশ যেদিকে যাচ্ছে, তাতে দেশের মানুষের মনে এক ধরনের সন্দেহ দানা বাঁধতে শুর“ করেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে তো? তেমনি বন্ধু রাষ্ট্রও কিছুটা উদ্বিগ্ন। এ¶েত্রে ভারত আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে অতীতের মতোই সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখতে চায়। তাদের ¯^ার্থেই আমাদের এখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকুক, ভারত তা চায়।
তাহলে কি আবারও আমাদের গণতন্ত্র ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, যারা দেশ পরিচালনা করেন তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিলে অনেক কিছুরই আশংকা থাকে। তবে আমি মনে করি না এদেশে আর কখনও মার্শাল ল’ আসবে। সেনাবাহিনী ¶মতা গ্রহণ করবে। তবে মানুষ বড় দুই দলের ব্যর্থতার কারণে বিকল্প শক্তি খুঁজছে। জাতীয় পার্টিই সেই বিকল্প শক্তি। ৭২টি সাংগঠনিক জেলায় জাতীয় পার্টির নির্বাচিত কমিটি রয়েছে। যা বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কালো মেঘ দেখা দিলেও জাতীয় পার্টি বসে নেই। দল গোছানোর কাজ চলছে। ইতিমধ্যে দুইশ’ আসনে প্রার্থী তালিকা চ‚ড়াš— করা হয়েছে। বাকি একশ’জনের তালিকা তৈরি হচ্ছে। এরশাদ বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ৬০ ভাগ ভোট পায়। বাকি থাকে ৪০ ভাগ। মানুষের মনে আস্থা সৃষ্টি করতে পারলে আগামীতে জাতীয় পার্টিই ¶মতায় আসবে। আমার বিশ্বাস, ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে সেই আস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো ¶মতায় এলে দেশের অবস্থা আরও খারাপ হবে। কারণ বিএনপি কোনভাবেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না। তারা আওয়ামী লীগকেও শাšি—তে থাকতে দেবে না। সংঘাত-সহিংসতা আরও বাড়বে। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। এরশাদ বলেন, বড় দুই দল কেউ কাউকে ¶মতায় দেখতে চায় না। আমি ¶মতায় এলে তাদের কোন আপত্তি নেই। তিনি দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ¶মতায় এলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বিএনপি তাকে মেনে নেবে। মেনে নেবে আওয়ামী লীগও। এরশাদ বলেন, বড় দুই দলের রেষারেষির কারণে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জাতীয় পার্টিকেই বিকল্প শক্তি হিসেবে আÍপ্রকাশ করতে হবে।

 এই রিপোর্ট পড়েছেন  1061 - জন
 রিপোর্ট »শনিবার, ২৫ অগাষ্ট , ২০১২. সময়-৯:৪২ pm | বাংলা- 10 Bhadro 1419
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!

Leave a Reply

4 + 3 =  

Chief Editor : Ln. Advocate Ferdaus Ahmed Asief  » E-mail :japaeditor82@gmail.com, abbokul@yahoo.com  » Mobile: 01765-375401, 01716-186230, Copyright © 2011 » All rights reserved.
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP
☼ Provided By  websbd.net  » System   Designed by HELAL .