সোনালি আঁশে ভাগ্য ফিরবে চাষিদের

24041_151মাগুরায় সোনালি আঁশ পাট চাষে ভাগ্য ফিরবে জেলার চাষিদের। তাই সুদিনের আশায় বুক বেঁধেছেন জেলার পাট চাষিরা। অন্যবারের তুলনায় এবাব জেলায় পাটের ফলন ভালো হওয়ায় চাষিরা লাভবান হবেন বলে মনে করছেন। জেলার পাট চাষি, কৃষি কর্মকর্তারাও একই সম্ভাবনা দেখছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট অর্জিত হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন যে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাটচাষিরা পাট কেটে নদীতে পচনের জন্য কাজ করছেন। আবার অনেকে পাট তুলে বাজারেও বিক্রি করছেন। মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় পাটের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৯০ হেক্টর। তার মধ্যে সদরে ৯ হাজার ৭শত হেক্টর, শালিখায় ৪ হাজার হেক্টর, মহম্মদপুরে ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর ও শ্রীপুরে ৯ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। পক্ষান্তরে কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এবার লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ২২ শতাংশ পাট জেলায় বেশি উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৬ সালে জেলায় অর্জিত পাটের লক্ষ্যমাত্রা ৪১ হাজার ১০ হেক্টর। তার মধ্যে সদরে ১৩ হাজার ৪০০ হেক্টর,  শালিখায় ৬ হাজার ৬ শত ৭৫ হেক্টর,  মহম্মদপুরে ১০ হাজার ৯শত হেক্টর ও শ্রীপুরে ১০ হাজার ৩৫ হেক্টর পাট অর্জিত হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা আরো জানান,  এবার পাটের ফলন ও গ্রোথ ভালো। তাই ফলনও ভালো হবে। তারা আরো বলেন,  বর্তমান সরকার পাটের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তাছাড়া পাটের ভালো ফলন বৃদ্ধিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নানা প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছে কৃষি বিভাগ। মাগুরা চাউলিয়া ইউনিয়নের বালিয়ডাঙ্গা গ্রামের নাজিম উদ্দিন জানান, এবার আমি ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। ফলন ভালো। ইতিমধ্যে আমি পাট কেটে জাগ দিয়েছি। তিনি আরো জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাট ভালো হয়েছে। কিন্তু নদীতে পানি না পাওয়ায় পাট কাটতে দেরি হয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টি হওয়ায় নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় এলাকার অনেক পাটচাষি পাট কাটছেন। সদরের বারাশিয়া গ্রামের টুকু কাজি জানান, তিনি এবার ভারতীয় বীজ ব্যবহার করছেন। ভারতের বীজে প্রত্যেকটিতে চারা হয়। ফলনও ভালো। তিনি আরো জানান, বাজার থেকে তিনি ৪৫০ টাকা কেজি দরে ভারতের বীজ ক্রয় করে চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এ বীজ ব্যবহার করে তিনি ভালো ফলন পাবেন বলে আশাবাদী।
সদরের মঘী গ্রামের পাটচাষি নুরু মিয়া জানান,  এ বছর আমি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। প্রথমে পাট মাঝারি হলে বেশ পোকামাকড়ের কবলে পড়ে। তারপর জমিতে বিভিন্ন কীটনাশক-ওষুধ ব্যবহার করেছি। পাট কেটে জাগ দিয়েছি। ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি।
মাগুরা নতুন বাজারের পাট ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে পাট (তোষা) বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮শ থেকে ১৯শ টাকা করে। উঠতি এ পাটের দর পতন হতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

বাজারের হক এন্টারপ্রাইজের সুলতান কবির জানান, গত বছরের শুরুতে পাট ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা দরে কিনেছিলাম। পরে পাটের বাজার বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার থেকে ২২শ টাকা। তিনি আরো জানান, বর্তমানে বাজারে উঠতি পাট তোষা বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে ভালো পাট সোনালি ১৯শ টাকা পর্যন্ত আমরা কিনছি। পাট ব্যবসায়ী মিঠুন বিশ্বাস জানান, আমরা পাট ক্রয় করে সরাসরি খুলনার দৌলতপুর জুট মিলে পাঠায়। এবার এখনও পাটের আমদানি শুরু হয়নি। তবে আশা করছি, গত বছরের তুলনায় এবার ভালো পাট ক্রয় করতে পারবো

 এই রিপোর্ট পড়েছেন  694 - জন
 রিপোর্ট »সোমবার, ২৫ জুলাই , ২০১৬. সময়-১:৩৭ pm | বাংলা- 10 Srabon 1423
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!

Leave a Reply

5 + 8 =  

Chief Editor : Ln. Advocate Ferdaus Ahmed Asief  » E-mail :japaeditor82@gmail.com, abbokul@yahoo.com  » Mobile: 01765-375401, 01716-186230, Copyright © 2011 » All rights reserved.
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP
☼ Provided By  websbd.net  » System   Designed by HELAL .