সাত খুন মামলার রায়ের অনুলিপি হাইকোর্টে আসবে রবিবার

 নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার রায়ের অনুলিপি বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে আসেনি। হাইকোর্টের নির্দেশনায় আগামী রবিবার আসার কথা রায়ের অনুলিপি।

image-17093

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার রায় ও নথিপত্র বৃহস্পতিবার পাঠানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলেও হাইকোর্টের নির্দেশনায় আগামী রবিবার পাঠানো হবে।

দেশের ১৬তম প্রধান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিনের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার ১১টার পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সাত খুন মামলায় ১৬ জানুয়ারি সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। রায়ে ৩৫ আসামির মধ্যে অন্যদের মধ্যে ৭ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুজনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায় ঘোষণার পর থেকে দ্রুত দণ্ড কার্যকরের দাবি করে আসছেন নিহতদের পরিবার ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা।

রায় ঘোষণার পরপরই দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আইনজীবীরা জানান, আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করতে এখনো কয়েকটি ধাপ বাকি। আইন অনুযায়ী প্রথমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যু অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে ‘ডেথ রেফারেন্স’ শুনানি হবে। ডেথ রেফারেন্সের শুনানির পর হাইকোর্টের রায়েও যদি আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বা সাজা বহাল থাকে, তাহলে তারা আপিল করতে পারবেন। আপিল বিভাগের রায়েও যদি আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করার নিয়ম রয়েছে। রিভিউতেও যদি তাদের সাজা বহাল থাকে তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি তাদের আবেদন ফিরিয়ে দিলে জেল কোড অনুযায়ী রায় কার্যকর করবে সরকার।

আইনজীবীরা জানান, মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসার পাশাপাশি আসামিরা হাইকোর্টে আপিল দায়ের করতে পারেন। এ জন্য তারা ৩০ দিন সময় পাবেন। আর যদি কেউ আপিল না করেন তাহলে তাদের ক্ষেত্রে শুধু ডেথ রেফারেন্সেরই শুনানি হবে। এরপর হাইকোর্ট মামলাটি শুনানির জন্য প্রথমে মামলার পেপারবুক (মামলার এফআইআর, চার্জশিট, বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় তথ্যসংবলিত নথি) তৈরি করবেন।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ৩৫ আসামির মধ্যে ২৩ জন কারাগারে আছেন। অন্যরা পলাতক। কারাবন্দিদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। তারা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন,র‍্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেন, র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার (বরখাস্ত) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা, হাবিলদার এমদাদুল হক, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই  পুর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর; নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, রহম আলী, আবুল বাশার ও মোর্তুজা জামান চার্চিল।

পলাতক ১২ আসামির মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নয়জন হলেন- কর্পোরাল মো. মোখলেছুর রহমান, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবীর; নূর হোসেনের সহযোগী সেলিম, সানাউল্লাহ ছানা, শাহজাহান ও জামাল উদ্দিন।

এ ছাড়া কারাবন্দী কর্পোরাল রুহুল আমিন, এএসআই  আবুল কালাম আজাদ, সৈনিক নুরুজ্জামান, কনস্টেবল বাবুল হাসান এবং পলাতক সৈনিক আব্দুল আলীম, এএসআই  কামাল হোসেন ও কনস্টেবল হাবিবুর রহমানের ১০ বছর করে কারাদণ্ড হয়।

আর সাত বছরের জেল  হয় কারাবন্দী এএসআই  বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিনের।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল বন্দর উপজেলা শান্তির চর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন উদ্ধার করা হয় আরো একজনের লাশ। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি বস্তায় বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

লাশ উদ্ধারের পর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন, যার তদন্ত চলে একসঙ্গে।

চাঞ্চল্যকর এ দুই মামলায় জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ‌্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু করেন। ৩৮টি কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৬৪ জনের সাক্ষ‌্য শোনেন আদালত। তাদের মধ‌্যে ৬০ জন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দেন। দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বিচারক এই মামলার রায়ের জন্য ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে হত্যার এই পরিকল্পনা করেন আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যদের দিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। অন‌্যদিকে নজরুলদের অপহরণের বিষয়টি দেখে ফেলায় আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালককে অপহরণ ও হত‌্যা করা হয়।

 এই রিপোর্ট পড়েছেন  197 - জন
 রিপোর্ট »শুক্রবার, ২০ জানুয়ারী , ২০১৭. সময়-১২:১০ am | বাংলা- 7 Magh 1423
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!

Leave a Reply

3 + 4 =  

Chief Editor : Ln. Advocate Ferdaus Ahmed Asief  » E-mail :japaeditor82@gmail.com, abbokul@yahoo.com  » Mobile: 01765-375401, 01716-186230, Copyright © 2011 » All rights reserved.
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP
☼ Provided By  websbd.net  » System   Designed by HELAL .