সাভারে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে ৭ গ্রেনেড ও ৩টি সুইসাইডাল উদ্ধার

সাভার পৌর এলাকার নামাগেন্ডা মহল্লায় জঙ্গি আস্তানা থেকে ৭টি গ্রেনেড ও ৩টি সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গ্রেনেড ও সুইসাইডাল ভেস্টের বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে নিস্ক্রিয় করা হয়েছে। বোমার বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে উঠে। এ ছাড়া জঙ্গিরা আস্তানা ভবনের মালিক ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের আটক করা হয়েছে। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান বেলা সোয়া ৩টায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাবল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এরপর বেলা ১১টা থেকে মূল অভিযান শুরু হয়। এ সময় এলাকার অর্ধশত বাড়ী-ঘরের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। নিয়ে আসা হয় কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স। ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর শুরু হয় অভিযান। বেলার সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বাড়িটির ভেতর থেকে একে একে ৭ টি বোমা নিষ্ক্রিয় করেন বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। সর্বশেষ এবং প্রথম গ্রেনেডটি বিস্ফোরণের সময় পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযান শেষ হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাত টার দিকে একই এলাকায় অপর একটি পাঁচ তলা বাড়ী ঘেরাও করে পুলিশ। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী ৬তলা বাড়িটিতে জঙ্গীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বাড়ীটি ঘেরাও করা হয়। বাড়ীটিতে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী জঙ্গী বসবাস করতেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা। ভাড়া নেয়ার সময় নিজেদের কসমেটিকস ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয় জঙ্গীরা।

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান জানান, মাত্র ১৫ দিন আগেই ওই এলাকায় জঙ্গিবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরই মধ্যে এত বড় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান আমাকে হতবাক করেছে। তাই তিনি জঙ্গি মোকাবিলায় সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান বলেন, জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষ হয়েছে। সেখানে যে দশটি বোমার বিস্ফোরণ হয়েছে এর মধ্যে সাতটি গ্রেনেড ও তিনটি সুইসাইডাল ভেস্ট ছিল। এ ছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিবকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের দুটি দল ও ঢাকা জেলা পুলিশের দু‘শতাধিক সদস্য পৌর এলাকার নামাগেন্ডা মহল্লার ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিবের নির্মাণাধীন ছয় তলা ভবনের দোতালার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সেখান থেকে বেশ কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি, জিহাদি বই ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার রাতে ফ্লাটটিতে খাওয়ার জন্য গরম ভাত ও তরকারি চুলায় থাকলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গা-ঢাকা দেয় জঙ্গিরা। তবে ফ্ল্যাটটির একটি কক্ষে থাকা একটি বড় ব্যাগে বোমা ও অপর একটি কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে জঙ্গি সদস্যরা অবস্থান করতে পারে বলে ধারণা করছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে পৌর এলাকার নামা গেন্ডা মহল্লার আনোয়ার মোল্ল্যা নামের এক ব্যক্তির পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান পরিচালনা করে। এবাড়ীতে জেএমবির একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি স্ত্রীসহ বসবাস করতেন। এছাড়া প্রায় একই স্থানে হালিমের বাড়ীতে জঙ্গিদের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। এবাড়ী থেকে পুলিশ জঙ্গীদের উৎপাদিত নকল প্রসাধনী সামগ্রী সামগ্রী জব্দ ও বিনষ্ট করে। এসকল প্রসাধনী সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন ব্রান্ডের ডিবি ক্রীম, সেভিং ক্রীম, আপটার লোশনসহ নানা প্রসাধনী রয়েছে। এ কারখানাতে ইব্রাহিম, নাসিম, কামাল ও নাসরিন বসবাস করতেন। তারা সকলেই বয়সে প্রায় ১৬ হতে ২০ বছরের মধ্যে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেল থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে দুটি দল ও ঢাকা জেলার প্রায় দু‘শতাধিক পুলিশ এ ৩টি বাড়িতে ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেও কাউকে আটক করতে পারেনি।67161_savar

 এই রিপোর্ট পড়েছেন  137 - জন
 রিপোর্ট »রবিবার, ২৮ মে , ২০১৭. সময়-৯:৫২ am | বাংলা- 14 Joishtho 1424
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!

Leave a Reply

5 + 9 =  

Chief Editor : Ln. Advocate Ferdaus Ahmed Asief  » E-mail :japaeditor82@gmail.com, abbokul@yahoo.com  » Mobile: 01765-375401, 01716-186230, Copyright © 2011 » All rights reserved.
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP
☼ Provided By  websbd.net  » System   Designed by HELAL .