আওয়ামী লীগের বিবাদে অশান্ত ধামরাই

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের বিবাদে ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীতে ধামরাইয়ের শান্ত পরিবেশ আশান্ত হয়ে উঠেছে। সাবেক এমপির অনুসারী ও তার আত্মীয়ের দুটি পা ভেঙ্গে দেওয়ার ঘটনা, সূয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান সোহরাবের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মামলা ও ঝাড়– মিছিল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র গোলাম কবিরের অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবিতে মিছিল, তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অধ্যাপক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাদ্দেস হোসেনের বিরুদ্ধে ডেজারে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা, একই মামলার আসামী উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পৌর কাউন্সিলর সাহেব আলীর বিরুদ্ধে মামলা, তার ভাগ্নে পৌর কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে বিভিন্ন মামলা ও হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের মধ্যে অশান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।

imagesছাড়া বর্তমান ও সাবেক এমপি ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে পরস্পর বিরোধী জমি দখল, চাঁদাবাজি, নেতাকর্মীদের নামে হয়রানিমূলক মামলা, স্বজনপ্রীতি, বিভিন্ন মিল কারখানায় মাটিভরাট ও ঝুট ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ জনসম্মুখে তুলে ধরে উত্তপ্ত বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে উভয় সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার কমতি নেই। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক এমপির অনুসারী যাদবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজনকে গত সোমবার নৃশংসভাবে দুটি পা ভেঙে দেয়। তিনি আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবেন না বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ঘটনার আলোকে ঘটনার জন্ম হলে যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে।

দলীয় নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, গত সোমবার যাদবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজন তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান পানকাত্তা থেকে রাত নয়টার দিকে বাড়ী ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তার উপর হামলা চালিয়ে দুটি পা ভেঙ্গে দেয়। বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে রিজন। এঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজুসহ ১০জনের নামে মামলা হলে যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের কহিনুর আলম নামের এক সদস্যসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। যাদের নামে মামলা হয়েছে তারাও আওয়ামী ঘরনার নেতাকর্মী। এ মামলায় বরিবার (১৯-৮-১৭) প্রধান আসামী চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু, বাহাদুর, সাইফুল ইসলাম ও আরজু মিয়াসহ চারজন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বলে জানান, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু।

মিজু জানান,‘আমি ১০তারিখে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম ১৯ তারিখ (শনিবার) দেশে আসছি। আমি বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ মালেকের পক্ষের লোক বলে আমাকে সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের সহযোগিতায় মামলার আসামী করা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই সূয়াপুর ইউনিয়ন মোটর চালকলীগ কমিটির সদস্যরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সাংসদ এমএ মালেকের ছবি সংবলিত ১২৭টি ফেস্টুন-ব্যানার বিভিন্ন স্থানে টানিয়ে দেয়। রাতের অন্ধকারে ১০টি ব্যানার ফেস্টুন কে বা কারা ছিঁড়ে ফেলে। এতে সূয়াপুর ইউনিয়নের মোটর চালকলীগের সভাপতি আবুল হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের অনুসারী স্থানীয় চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহরাবের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন। এতে এসআই দীপঙ্কর রায় তদন্তে গেলে তার উপস্থিতিতে দু‘পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২০জন আহত হন।

এ ঘটনায় উপজেলা মোটর চালকলীগের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে প্রথমে চেয়ারম্যান সোহরাবসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে চেয়ারম্যান সোহরাবের সমর্থক সূয়াপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সোহেল মাহমুদ বাদী হয়ে ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা থেকে চাঁদাদাবির ঘটনায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা ও তিনটি জিডি হয়েছে। যা কোন রাজনৈতিক মামলা নয়। তিনি বর্তমান ও সাবেক এমপির মধ্যে গ্রুপিং এর কথা অস্বীকার করে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য প্রতিযোগিতা চলছে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে গত রবিবার সূয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহরাবের বিরুদ্ধে ঝাড়– মিছিল করেছে সূয়াপুর ইউনিয়ন মোটর চালখ শ্রমিকলীগের সদস্যরা। তবে ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে সূয়াপুর ইউনিয়নবাসীর পক্ষে আয়োজন করেছে।

হাফিজুর রহমান সোহরাব বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমাকে চলতি মাসের ৫ নং মামলার আসামী করা হয়েছে এমপি মালেক সাহেবের অর্ডারে। আমাকে অপহরণ করতে আমার সাভারের বাসায় একদল দুর্বৃত্ত আসার খবর পেয়ে সাভার থানা পুলিশ আমার বাসায় অবস্থান করায় আমাকে অপরহণ করতে পারেনি’।

এ বিষয়ে গত শনিবার ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদ রিজনের উপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সোহবার চেয়ারম্যানকে অপরহণ করতে যারা আসছিল তাদের মধ্যে যদি এমপি এমএ মালেকের সংশ্লিষ্টতা থাকে তাকেও গ্রেফতারের নির্দেশ ছিল উপর মহলের। এসময় তিনি সংসদ সদস্য এমএ মালেকের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, ‘মানুষের প্রতি অনেক জুলুম করেছেন, আপনার ইঙ্গিতে দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের উপর হামলা হয়েছে। জনরোষে পড়ার আগেই ভালমত চলেন। এক সময় সবাই মিলে যদি আপনার বিরুদ্ধে মামলা করে তাহলে খালেদা জিয়ার মত আদালতেই থাকতে হবে’।

মেয়র গোলাম কবির বলেন, রথযাত্রা অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে এমপি এমএ মালেকের নিষেদ থাকায় আমাকে অতিথি করেনি রথযাত্রা উদযাপন পরিষদ। তারা আমার কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। কিন্তু এরপরও এমপির ইন্দনে আমার বিরুদ্ধে হিন্দুরা মিছিল করেছে।

পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দুলাল সরকার, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী, পৌর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রানার নামে রথমেলার আগত দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনা উল্লেখ করে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় থেকেও বিরোধীদলের মত আছি। আমাদের এমপি সাহেব কাথাও মূল্যায়ন করছেন না। তার পক্ষে থাকলেই আওয়ামী লীগ না থাকলেই মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এতে ধামরাইয়ের শান্ত পরিবেশ অশান্ত করে তুলছেন’।

তবে এমপি মালেক এর অনুসারী উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি বলেন, ‘এমপি সাহেবের কাছে অন্যায়ভাবে দাবীকৃত কিছু না পেলেই না পাওয়ার বেদনায় অনেকে এমপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন’।

 এই রিপোর্ট পড়েছেন  46 - জন
 রিপোর্ট »বুধবার, ২৩ অগাষ্ট , ২০১৭. সময়-৯:১৮ am | বাংলা- 8 Bhadro 1424
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!

Leave a Reply

5 + 4 =  

Chief Editor : Ln. Advocate Ferdaus Ahmed Asief  » E-mail :japaeditor82@gmail.com, abbokul@yahoo.com  » Mobile: 01765-375401, 01716-186230, Copyright © 2011 » All rights reserved.
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP
☼ Provided By  websbd.net  » System   Designed by HELAL .