তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে নানা উদ্যোগ ব্রিটিশ আইন কী বলে!

image-39929-1524117892
৥ আব্দুস সামাদ # বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক দুর্নীতি মামলার দ- নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সরকারের সাথে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনে যোগদানের জন্য বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী এক সেমিনারে প্রশ্নোত্তরে এ কথা বলেন।

তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। জরুরি অবস্থার সময় গ্রেফতার হওয়ার পর জামিন পেয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যান। সেখানে তিনি এখন স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন বলে জানা যায়। তারেক রহমান দুটি মামলায় দ িত হয়েছেন। এর একটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ও অপরটি মুদ্রাপাচার মামলা।

এসব দন্ড পাওয়ার পর তারেক রহমানকে বিচারের জন্য দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ আইনি কাঠামোতে কতখানি সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে বাংলা ইনসাইডার-এ প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হচ্ছে, তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয় অনুমতি বাতিল করার উদ্যোগে নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। ৪ শর্তে লন্ডনে বিএনপি’র এই শীর্ষ নেতাকে যুক্তরাজ্য অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক আশ্রয়ের শর্ত ভঙ্গ করায় তার এই অনুমতি বাতিল করা হচ্ছে।

৮ জুলাই ২০১১ সালে যুক্তরাজ্য ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট তারেক রহমান এবং তার পরিবারেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ে লন্ডনে বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়। এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে দেশে ফেরত চায়। ১৫ ফেব্রুয়ারি ইন্টারপোল এই মর্মে নোটিশ প্রদান করে যে, তারেক জিয়া বাংলাদেশে দুটি মামলায় দ িত। একটি সন্ত্রাসী মামলা বিচারাধীন। এজন্য সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তার দেশে ফেরা প্রয়োজন। অন্যদিকে, গত মার্চের প্রথম সপ্তাহে লেবার পার্টির ১২ জন এমপি তারেক রহমানসহ ৮ জনকে অপরাধী হিসেবে দেখিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদানের সুযোগ বাতিল করার অনুরোধ করে। এইসব লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ইমিগ্রেশন বিভাগ তার ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উদৃতি দিয়ে বাংলা ইনসাইডার জানায় তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্য প্রযোজ্য ৪ শর্তই লংঘন করেছে। শর্তগুলো হলো ১. যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকাকালীন সময়ে কোনো রাষ্ট্র বা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা ঘৃনা ছড়ানো যাবে না। ২. রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে কোনো সন্ত্রাসী, ধ্বংসাত্নক কর্মকা ে জড়িত থাকা যাবে না। ৩. ব্রিটেনের কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে শারিরীক বা মানসিক নিপীড়ন করা যাবে না। ৪. ব্রিটেনের জন্য প্রযোজ্য কোনো দন্ডনীয় অপরাধ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এদিকে গত জানুয়ারি মাস থেকেই বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ সরকারের সাথে অপরাধী বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়। অপরাধী বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে, দেশের দ িত অপরাধী যদি ব্রিটেনে আশ্রয় নেয়, তবে ব্রিটিশ সরকার তাকে তার মূল দেশে ফেরত পাঠাবে। কিন্তু এই চুক্তি স্বাক্ষর হলেই তারেক রহমানকে যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কারণ, যুক্তরাজ্য অন্য যে দেশগুলোর সাথে এরকম অপরাধী বিনিময় চুক্তি করছে যেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা কোনো ব্যক্তি এই বিনিময় চুক্তির আওতায় পড়ে না। এই কারণেই বাংলাদেশ সরকার ঐ সমঝোতা চুক্তির পাশাপাশি তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুবিধা বাতিল করার আবেদন করে।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগ বাতিল হলে, তাকে গ্রেফতার হতে হবে এবং যে দেশ থেকে এসেছেন, সেই দেশে অর্থাৎ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। অবশ্য লন্ডনের একাধিক সূত্র বলছে, তার যেন ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগ বাতিল না হয়’ সেজন্য ইতিমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ব্রিটেনের আইনে কি বলা হয়েছে_বিবিসি বাংলার কাছে তা ব্যাখ্যা করেছেন ইংল্যান্ডে সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী সৈয়দ ইকবাল। তিনি বলেন, তারেক রহমান সফলভাবে ব্রিটেনে আশ্রয় এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেন যে বাংলাদেশে ফেরত গেলে তার ওপর জুলুম হবে রাজনৈতিক কারণে।

সৈয়দ ইকবাল জানান, তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, সেটি হল এঙ্ট্রাডিশন বা বিচারের জন্য প্রত্যর্পণ। এর প্রক্রিয়া হল যদি কোনো সরকার ব্রিটিশ হোম অফিস বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এঙ্ট্রাডিশনের আবেদন পাঠায় তা হলে ব্রিটেনের ২০০৩ সালের এঙ্ট্রাডিশন আইন আলোকে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এক্ষেত্রে গ্রেফতারের পরোয়ানা দেয়া হবে আদালতের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, আদালত দেখবে যে এ ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা আছে কিনা। এর একটি হল_ যে অপরাধের জন্য তাকে বাংলাদেশে নেয়া হবে তার জন্য তার মৃত্যুদ হতে পারে কিনা।

দ্বিতীয়টি হল, যে সাজার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হবে_তার বাইরে অন্য কোনো সাজা যেন না হয়। তৃতীয়টি হল, এঙ্ট্রাডিশন অর্থাৎ বিচারের জন্য প্রত্যর্পিত হওয়ার মতো কোনো অপরাধ তিনি করেছেন কিনা, উল্লেখ করেন সৈয়দ ইকবাল।

তারেক রহমান বা তার আইনজীবীরা যদি এটি চ্যালেঞ্জ করতে চান, তা হলে তারা আপিলের প্রক্রিয়ায় শরিক হতে পারেন, হাইকোর্টে বা সুপ্রিমকোর্টে যেতে পারবেন বলে জানান সৈয়দ ইকবাল।

তিনি বলেন, তা ছাড়া তারা যদি মনে করেন যে এতে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে তাকে নেয়া হচ্ছে, তা হলে তারা জুডিশিয়াল রিভিউর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। তারা বলতে পারবেন যে, কনভেনশনের আওতায় তাকে ব্রিটেনে আশ্রয় দেয়া হয়েছে_দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেলে তার লঙ্ঘন হবে, তারা তা করতে পারবেন।

এই আইনজীবী জানান, ২০০৩ সালের এঙ্ট্রাডিশন আইন এবং ২০০২ সালের কমনওয়েলথ দেশগুলোর এঙ্ট্রাডিশন সংক্রান্ত আইনগুলোতে এ প্রক্রিয়াগুলো পরিষ্কারভাবে বলা আছে।

 এই রিপোর্ট পড়েছেন  156 - জন
 রিপোর্ট »শনিবার, ২১ এপ্রিল , ২০১৮. সময়-১০:৩৯ am | বাংলা- 8 Boishakh 1425
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!

Leave a Reply

5 + 7 =  

Chief Editor : Ln. Advocate Ferdaus Ahmed Asief  » E-mail :japaeditor82@gmail.com, abbokul@yahoo.com  » Mobile: 01765-375401, 01716-186230, Copyright © 2011 » All rights reserved.
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP
☼ Provided By  websbd.net  » System   Designed by HELAL .